Tuesday, June 9, 2009

কোথায় যেন এক ভয়ঙ্কর প্রতিহিংসা চলতে ফিরতে দেখা

- ড. রেজোয়ান সিদ্দিকী

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতীয় সংসদে দাঁড়িয়ে গলা ভারী করে যখন বলছিলেন, পিলখানা ট্র্যাজেডিতে নিহত সেনাকর্মকর্তাদের পরিবারকে পুনর্বাসনের কথা এবং তার জন্য তিনি যখন বেগম খালেদা জিয়াকে তার মইনুল রোডের বাড়িটি ছেড়ে দিতে বলছিলেন, তখন কেউ বিশ্বাস করেনি যে ওই বাড়ি থেকে তিনি সত্যি সত্যি বেগম খালেদা জিয়াকে উচ্ছেদ করার সিদ্ধান্ত নিয়ে বসবেন। সেদিন তিনি বলছিলেন, এই বাড়িটি পেলেই সেখানে বহুতল ফ্ল্যাট নির্মাণ করে ক্ষতিগ্রস্ত প্রত্যেক পরিবারকে দু’টি করে ফ্ল্যাট দেবেন। একটিতে তারা থাকবেন আর একটি ভাড়া দিয়ে সংসারের ব্যয় সঙ্কুলান করবেন। কিন্তু ব্যাপারটি এত অযৌক্তিক ছিল যে, অনেকেই মনে করেছেন শেখ হাসিনা তার স্বভাবসুলভ তির্যক, বাচনভঙ্গিই প্রয়োগ করছেন। তিনি বলেছিলেন, নিহত সেনাকর্মকর্তাদের পরিবারের পুনর্বাসনের জন্য বেগম খালেদা জিয়ার উচিত নিজে থেকেই বাড়িটি ছেড়ে দেয়া। তখনো মনে হয়নি যে বলপ্রয়োগে এমন হীনকৌশল তিনি প্রয়োগ করবেন। গত ৮ এপ্রিল মন্ত্রিপরিষদের এক অনির্ধারিত বৈঠকে তিনি সে সিদ্ধান্তই নিয়ে বসেছেন। মন্ত্রিপরিষদ ১৯৮২ সালে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের পরিবারের জন্য বরাদ্দ দেয়া বাড়িটির বরাদ্দ বাতিল করে দিয়েছে। এ জন্য এখন সারাদেশে নিন্দার ঝড় বইছে। বুদ্ধিজীবী সমাজ, আইনজীবী সমাজ, ছাত্র-শিক্ষক সমাজ সব মহল থেকে একযোগে প্রতিবাদের ঝড় উঠেছে­ এই সিদ্ধান্ত বাতিল করো।

শেখ হাসিনার সরকারের তরফ থেকে বিভিন্ন মন্ত্রী ও দায়িত্বশীল(?) ব্যক্তিরা যেসব যুক্তি দাঁড় করিয়েছেন সেগুলো পাশাপাশি সাজিয়ে দেখা যেতে পারে : ০১. পিলখানা ট্র্যাজেডিতে নিহত সেনাসদস্যদের পুনর্বাসনের জন্য জায়গাটি সরকারের দরকার। ০২. বেগম খালেদা জিয়া ও তার দুই পুত্রের নামে যখন এই বাড়িটি বরাদ্দ দেয়া হয়, তখন তাদের ঢাকায় থাকার কোনো জায়গা ছিল না এবং আয়-রোজগারেরও কোনো পথ ছিল না। বর্তমানে তাদের আর সেই অবস্খা নেই। বেগম খালেদা জিয়ার দুই ছেলে এখন অনেক সম্পদশালী। সুতরাং এখন বরাদ্দ দেয়া বাড়িটি তাদের ফেরত দেয়া উচিত। ০৩. সরকারের নির্দেশে পদাধিকার বলে ক্যান্টনমেন্ট বোর্ডের চেয়ারম্যান তৎকালীন সেনা প্রধান লে. জেনারেল হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ বলেছেন, বেগম জিয়া ভবিষ্যতে রাজনীতি করবেন জানলে তিনি তাকে ওই বাড়িটি বরাদ্দ দিতেন না। আর সরকারের তরফ থেকে বলা হয়েছে, বেগম খালেদা জিয়া ওই বাসায় বসে রাজনীতি করায় সেখানে রাজনৈতিক লোকদের আনাগোনা হয়। ফলে সেনানিবাসে নানা ধরনের অসুবিধা সৃষ্টি হয়। ০৪. কৃষিমন্ত্রী বেগম মতিয়া চৌধুরী বলেছেন, জিয়া পরিবারকে ওই বাড়িটি বরাদ্দ দেয়ার ক্ষেত্রে মন্ত্রিপরিষদের কোনো অনুমোদন নেই। ফলে ওই বাড়ির বরাদ্দই অবৈধ। তা ছাড়া একই পরিবারকে দু’টি বাড়ি বরাদ্দ দেয়ারও কোনো বিধান নেই। এই প্রসঙ্গে আরো যেসব প্রশ্ন উথাপিত হয়েছে সেগুলো হলো­ ০১. মন্ত্রিপরিষদ সরাসরি এই বরাদ্দ বাতিলের এখতিয়ার রাখে কি না। ০২. নাকি শেখ হাসিনা এক টাকায় নিজেই নিজের নামে যে গণভবন লিখে নিয়েছিলেন ২০০১ সালে জোট সরকার ক্ষমতায় এসে সে গণভবনের বরাদ্দ বাতিল করায় প্রতিহিংসা বশত শেখ হাসিনা বেগম খালেদা জিয়াকে বাস্তুচ্যুত করার সিদ্ধান্ত নিলেন। ০৩. এ দিকে আরো একজন প্রবীণ সাংবাদিক প্রস্তাব করেছেন, নিহত সেনাকর্মকর্তাদের পরিবারের পুনর্বাসনের জন্য বেগম খালেদা জিয়াকে তার নিজের বসতবাড়ি ছেড়ে দেয়ার অনুরোধ করার আগে শেখ হাসিনা ধানমন্ডি লেক ভরাট করে যে সুরম্য প্রাসাদ নির্মাণ করেছেন সেটি ছেড়ে দিয়ে বিরল ও মহান দৃষ্টান্ত স্খাপন করতে পারতেন।

আমরা বিষয়গুলো বিশ্লেষণ করে দেখতে পারি। প্রথমত ৫৬ হাজার বর্গমাইলের দেশে ৫৬টি সেনা পরিবারকে পুনর্বাসনের জন্য বাংলাদেশে এমনকি সেনানিবাস এলাকায়ও জায়গা পাওয়া গেল না? সেনানিবাস এলাকায় বহু জায়গা খালি পড়ে আছে। সেখানে অনায়াসে বহুতল ভবন নির্মাণ করে এদের পুনর্বাসন করা যেতে পারে। তৎকালীন রাষ্ট্রপতি এবং ১৯৭১ সালের স্বাধীনতার ঘোষক ও বীরউত্তম মুক্তিযোদ্ধা জিয়াউর রহমান। ১৯৮১ সালের ৩০ মে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজে সেনাবাহিনীর বিদ্রোহীদের হাতে নিহত হন। তখন তৎকালীন সরকার শহীদ জিয়ার পরিবারকে পুনর্বাসনের জন্য তাদের ওই বাড়িটি বরাদ্দ করেন। এখন সেই শহীদ পরিবারকে উচ্ছেদ করে সেখানে পিলখানায় নিহত সেনাকর্মকর্তাদের পুনর্বাসনের বিষয়টি কোনো যৌক্তিক কথা হতে পারে না এবং এতে সেখানে নতুন করে পুনর্বাসিত পরিবারগুলোর মধ্যে এক স্খায়ী বিব্রতকর অবস্খার সৃষ্টি হবে। সব সময়ই তাদের মনের ভেতরে এই বিষয়টি কাজ করবে যে, শহীদ জিয়ার পরিবারকে উচ্ছেদ করে তারা সেখানে পুনর্বাসিত হয়েছেন। যদিও অনেকের এমন সংশয়ও আছে যে, বর্তমান সরকার তাদের মেয়াদকালে ভবন নির্মাণ করে এই পুনর্বাসনের কাজটি করতে পারবে কিনা? সরকারের মন্ত্রীরা অবশ্য এখন সমস্বরে এক রা তুলেছেন। তারা বলছেন, বেগম খালেদা জিয়াকে ওই বাড়িটি বরাদ্দ দেয়া হয়েছিল সম্পূর্ণ বেআইনিভাবে। বাড়িটি বরাদ্দের জন্য মন্ত্রিপরিষদের কোনো বৈঠক পর্যন্ত হয়নি এবং তাতে এই সিদ্ধান্তও অনুমোদিত হয়নি। সরকারের এসব মন্ত্রী প্রকারান্তরে বাঙ্গালকে হাইকোর্ট দেখাচ্ছেন। কিছু দিন পর তারা হয়তো এমন কথাও বলতে শুরু করবেন যে, রাজউক’র প্লট বরাদ্দ দিতে মন্ত্রিসভার অনুমোদন লাগবে। যা-ই হোক, এ বিষয়ে জাতীয় সংসদে বক্তব্য রাখতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা স্বয়ং যে তথ্য দিয়েছেন, তাতে দেখা যাচ্ছে যে, ১৯৮১ সালের ১২ জুনের মন্ত্রিপরিষদ বৈঠক, ১৯৮২ সালের ১৯ মার্চের মন্ত্রিপরিষদ বৈঠক এবং ১৯৮২ সালের ২৫ মে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিপরিষদ বৈঠকে বেগম জিয়া ও তার দুই পুত্রের জন্য এই বাড়িটি বরাদ্দ দেয়া হয়। সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বাড়িটি শহীদ জিয়াউর রহমান পরিবারের জন্য চূড়ান্ত বরাদ্দ দেন ক্যান্টনমেন্ট বোর্ড প্রধান ও সেনাবাহিনী প্রধান লে. জেনারেল হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ। এ ক্ষেত্রে মন্ত্রিসভার তিন দফা বৈঠকে তা অনুমোদিত হয়েছে। শেখ হাসিনা ওই বক্তব্য দেয়ার পর আশা করা গিয়েছিল যে, ‘মন্ত্রিপরিষদের বৈঠক ওয়ালারা চুপ মেরে যাবেন। কিন্তু দেখা গেল তারাও ওই সারিন্দা বাজিয়েই চলেছেন। লক্ষ্য সম্ভবত এই যে, পার্লামেন্টে প্রধানমন্ত্রী তো আর অসত্য বক্তব্য দিতে পারেন না, ফলে তিনি তার বক্তব্য দিয়েছেন। কিন্তু মন্ত্রীরা বহু কণ্ঠে অসত্য বক্তব্য দিয়ে গোয়েবলসীয় কায়দায় মিথ্যাকে জনমনে সত্য বলে প্রমাণ করে ছাড়বেন।

এ দিকে আবার আইনমন্ত্রীসহ সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রী এমন কথা বলতে শুরু করেছেন, একসাথে কাউকে দু’টি প্লট দেয়া বেআইনি। সেই কারণে শহীদ জিয়ার পরিবারের জন্য বরাদ্দ দেয়া গুলশানের প্লটটি রেখে সেনানিবাস এলাকার বাড়িটি কেড়ে নেয়া হয়। কোন আইনের ধারা মতে দু’টি প্লট দেয়া বেআইনি, সে কথা আইনের ধ্বজাধারীদের কেউ এখন পর্যন্ত উল্লেখ করেননি। অথচ দেশের শীর্ষস্খানীয় আইনজীবীরা বলছেন, সরকার কাউকে দু’টি প্লট দিতে পারবে না, এমন কোনো কথা আইনে উল্লেখ নেই। সরকার একটি দিতে পারে, দু’টি দিতে পারে, ইচ্ছে করলে নাও দিতে পারে। কিন্তু আইনি প্রমাণ উল্লেখ না করেই আইনমন্ত্রীসহ অন্যান্য মন্ত্রী দু’টি প্লট বরাদ্দের বিষয়টিকে বেআইনি বলে অভিহিত করেই যাচ্ছেন।

কারো নামে দু’টি বাসা বরাদ্দ যদি বেআইনিই হয় তাহলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিজেও কি তাহলে সে ধরনের বেআইনি কাজ করতে যাচ্ছেন। শেখ হাসিনা ঘোষণা করেছেন, বেগম খালেদা জিয়াকে উচ্ছেদ করে সেখানে তিনি ফ্ল্যাট নির্মাণ করবেন এবং পিলখানা ট্র্যাজেডিতে নিহতদের প্রতি পরিবারকে দু’টি করে ফ্ল্যাট দেবেন। একটিতে তারা থাকবেন এবং অপরটি ভাড়া দিয়ে সংসারের ব্যয় নির্বাহ করবেন। যদি দু’টি বাসা বরাদ্দ দেয়া বেআইনি হয় তাহলে এমন বেআইনি কাজ শেখ হাসিনা কেমন করে করবেন? নাকি এ শুধু কথার কথা। বেআইনি কাজ না করার স্বার্থে শেষ পর্যন্ত কি তিনি দু’টি ফ্ল্যাটের ঘোষণা দিয়ে প্রতি পরিবারকে শেষ পর্যন্ত একটি করে ফ্ল্যাট দেবেন? মহান আল্লাহতায়ালা এত দিন জীবিত রাখলে হয়তো দেখে যেতে পারব শেষ পর্যন্ত তিনি কী করেন?

দ্বিতীয়ত, আওয়ামী লীগের শত অপপ্রচার স্বত্ত্বেও এখন প্রায় সবাই স্বীকার করেছেন, জিয়াউর রহমানের শাহাদতবরণের পর তার পরিবারের তেমন কোনো সম্পদ ছিল না। তাদের থাকার যেমন জায়গা ছিল না তেমনি সংসারের ব্যয় নির্বাহের জন্য তেমন কোনো ব্যবস্খা ছিল না। পিলখানা ট্র্যাজেডিতে নিহত সেনাকর্মকর্তাদের বর্তমান অবস্খা খুব যে বেশি উন্নত এমন দাবি করা যায় না সে কথা মনে রেখেই সরকার তাদের পরিবারের জন্য আর্থিক ক্ষতিপূরণের ব্যবস্খা করেছে। চাকরি সূত্রেও তাদের পরিবারগুলো বিধি অনুযায়ী আর্থিক সুবিধা পাবে। কিন্তু ছোট ছোট সন্তান বড় করে তোলার জন্য সেটা যথেষ্ট নয় মনে করেই সম্ভবত সরকার তাদের নিয়মিত আয়ের জন্য একটি করে অতিরিক্ত ফ্ল্যাট বরাদ্দ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। কেউ এ রকম ধারণা পোষণ করে না যে এসব পরিবারের সদস্যরা চির জীবনই এ রকম সঙ্কটময় অবস্খায় থাকবেন তাদের ছেলে মেয়েরা বড় হবে লেখাপড়া শিখবে। চাকরি-বাকরি, ব্যবসায়-বাণিজ্য করে বিত্তবান হবে। সরকার কি তখন তাদের নামে বরাদ্দ দেয়া ফ্ল্যাটগুলো ছেড়ে নিতে বলবে?

সে রকম আশঙ্কা উড়িয়ে দেয়ার কোনো কারণ নেই, প্রধানমন্ত্রী নিজে বলেছেন যে যেহেতু জিয়াউর রহমানের দুই ছেলে আয়-উপার্জন করে অর্থবিত্তের মালিক হয়েছে। সুতরাং মইনুল রোডের বাসাটি ছেড়ে দেয়া উচিত। এ ধরনের চিন্তা নিষ্ঠুর এবং সুস্খ মানসিকতার পরিচায়ক নয়। সরকার যদি কাউকে কিছু দান করে সে দান ফিরিয়ে নেয়ার জন্য হাত বাড়ানো যুক্তিসঙ্গত নয়।

তৃতীয়ত এখন বলা হচ্ছে, বেগম খালেদা জিয়া সক্রিয় রাজনীতিতে অংশ নেয়ার ফলে সেনানিবাসে নানা ধরনের অসুবিধা হচ্ছে। মহাজোট সরকারের শরিক, আওয়ামী লীগের দীর্ঘকালের পরীক্ষিত মিত্র হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ বলেছেন, তিনি যদি জানতেন যে, ভবিষ্যতে বেগম খালেদা জিয়া রাজনীতি করবেন তাহলে তাকে ওই বাড়িটি বরাদ্দ দিতেন না। রাজনীতি করা প্রত্যেক নাগরিকের অধিকার। কোথায়ও প্লট-ফ্ল্যাট বরাদ্দের ক্ষেত্রে এমন কোনো শর্ত আরোপ করা হয় না যে, ভবিষ্যতে বরাদ্দপ্রাপ্ত ব্যক্তি রাজনীতি করতে পারবেন না। এ রকম শর্ত যদি আরোপ করা হয় তা হবে সংবিধানের বরখেলাপ এবং মানুষের মৌলিক ও মানবাধিকার পরিপন্থী। কথাটা ঘুরিয়েও বলা যায়, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান যদি জানতেন, এই হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ ভবিষ্যতে গণতান্ত্রিক সরকারকে হটিয়ে ক্ষমতা দখল করে দেশে দীর্ঘস্খায়ী স্বৈরশাসন কায়েম করবেন, তাহলে জিয়াউর রহমান নিশ্চয়ই তাকে সেনাবাহিনী প্রধান হিসেবে নিয়োগ দিতেন না। সে নিয়োগ না পেলে এমন হালকা উক্তি করার এখতিয়ারও তার থাকত না। ধারণা করি, পিলখানায় নিহত যেসব সেনা পরিবারকে ফ্ল্যাট দেয়া হবে তাদের বরাদ্দের শর্তে রাজনীতি না করার কথা উল্লেখ থাকবে না। আবার ক্যান্টনমেন্ট এলাকায় থেকে রাজনীতি করাটা অন্যায় এমন বক্তব্য দিয়ে সরকার নিজেকেই হাস্যকর করে তুলেছে। আওয়ামী লীগের বর্তমান বাণিজ্যমন্ত্রী অব: লে. কর্নেল ফারুক খানও ক্যান্টনমেন্ট এলাকায় থাকেন। তেমনিভাবে আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য অব: মে. জেনারেল কে এম শফিউল্লাহ, আওয়ামী লীগের সাবেক মন্ত্রী অব: লে. জেনারেল নূরউদ্দিন খান, বিএনপি’র সাবেক হুইপ শহিদুল হক জামাল ও সাবেক সংসদ সদস্য প্রফেসর মোহাম্মদ আবদুল্লাহ সেনানিবাস এলাকার বাসিন্দা। এ ছাড়াও অব: কর্নেল অলি আহমদ, অব: ব্রি. জেনারেল হান্নান শাহ, অব: মে. জেনারেল সৈয়দ মোহাম্মদ ইব্রাহীমসহ আরো বহু রাজনীতিক ক্যান্টনমেন্ট এলাকায় বসবাস করেন। তাতে যদি কোনো অসুবিধা না হয়ে থাকে তাহলে শুধু বেগম খালেদা জিয়ার ক্ষেত্রে এত বড় অসুবিধা কেমন করে হলো। এখানে আরো উল্লেখযোগ্য, আওয়ামী লীগ পিলখানা ট্র্যাজেডিতে নিহত সেনা পরিবারের মধ্য থেকে দু’জনকে মহিলা কোটায় জাতীয় সংসদে সদস্য করে এনেছে। অর্থাৎ সেনানিবাসে পুনর্বাসনের আগেই তাদের রাজনীতিতে যুক্ত করা হয়েছে।

এই সব ঘটনাই প্রমাণ করে, কোথায় যেন এক ভয়ঙ্কর প্রতিহিংসাপরায়ণতা কাজ করছে। অনেকেই এ কথা স্পষ্ট করে বলেছেন, শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রী হয়ে অপরিমেয় লিïসাবশত এক টাকার বিনিময়ে নিজেই নিজের নামে লিখে নিয়েছিলেন সুবিশাল গণভবন। এর সাথে শুধু সামন্ত প্রভুদের লিïসারই তুলনা চলে। ২০০১ সালে জোট সরকার ক্ষমতায় এসে ওই বরাদ্দ বাতিল করেছিল। তারই প্রতিশোধ হিসেবে শেখ হাসিনা বেগম খালেদা জিয়াকে তার সেনানিবাসের বাসভবন থেকে উচ্ছেদের সিদ্ধান্ত নিলেন।

তবে এই দু’টি ঘটনার মধ্যে গুণগত ফারাক আছে। প্রথমত বেগম খালেদা জিয়া সরকারের কাছে ওই বাড়িটি চানওনি এবং নিজেই নিজের নামে লিখেও নেননি। সরকার ও রাষ্ট্র সেটি তাকে দান করেছিল। কারণ, ঢাকায় জিয়াউর রহমানের কোনো বাড়ি ছিল না। থাকারও জায়গা ছিল না। এ দিকে শেখ মুজিবুর রহমান নিহত হওয়ার পর শেখ হাসিনার থাকার জায়গার অভাব ছিল না। ধানমন্ডির ৩২ নম্বরে শেখ মুজিবুর রহমানের নিজস্ব বাড়ি ছিল এবং এখনো আছে। শেখ হাসিনার স্বামী ড. ওয়াজেদ মিয়ার ধানমন্ডির পাঁচ নম্বরে নিজস্ব বাড়ি আছে। তার পরও শেখ হাসিনাকে কেনো তার থাকার জন্য গণভবন লিখে নিতে হবে? সুতরাং দু’টি ঘটনাকে এক করে দেখার অবকাশ নেই।

বেগম খালেদা জিয়াকে তার বাড়ি থেকে উচ্ছেদের যে উদ্যোগ সরকার নিয়েছে, তাতে এটাই প্রমাণিত হয় যে, সরকারের উচ্চমহলে কারো মধ্যেই কোনো রাষ্ট্রনায়কোচিত গুণ নেই। আর গত তিন মাসে সরকার সব ক্ষেত্রে যে অপরিমেয় ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে, তা থেকে নাগরিকের দৃষ্টি ভিন্ন খাতে সরিয়ে দেয়ার জন্যই এ শোরগোল তোলা হয়েছে। দেশে বিদ্যুৎ নেই, পানি নেই, কাজ নেই, ছাত্রলীগ ও অন্যান্য লীগের ওপর নিয়ন্ত্রণ নেই। আওয়ামী লীগের বিভিন্ন অঙ্গ সংগঠনের অন্তর্কোন্দলে চতুর্দিকে ত্রাস আর ভীতি। এর কোনো কিছুই সরকার মোকাবেলা করতে পারছে না। ফলে যা ইস্যু নয়, তাকেই ইস্যু করে সঙ্ঘাতের পথে যেতে চাইছে সরকার। এই পথ দেশকে যে পরিণামের দিকে নিয়ে যাবে সেটা কারো জন্য শুভ হবে না।

জলিলের বক্তব্যে তোলপাড়



- ঢাকা প্রতিনিধি, মাহবুবুল আলম

নৌকা থেকে কেউ নেমে গেলে তিনি হারিয়ে যান : সাজেদা , আমিই প্রথম শেখ হাসিনার মুক্তির কথা বলেছিলাম : আমু বিক্ষুব্ধ ব্যক্তি কি বললো তা ধরতে নেই : সুরঞ্জিত

“মন্ত্রিসভার অনেকেই ডিজিএফআই’র পেইড এজেন্ট”­ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবদুল জলিলের এমন বক্তব্যে দলের ভেতরে-বাইরে ঝড় উঠেছে। কেউ কেউ তার এ বক্তব্য দলের বিরুদ্ধে দেয়া হয়েছে বলে মন্তব্য করে বলেছেন, দলেরই সাধারণ সম্পাদক পদে থেকে এ ধরনের বক্তব্যের অপরাধে আবুদল জলিলকে এখনই দল থেকে বহিষ্কারের উদ্যোগ নেয়া প্রয়োজন। এ দিকে দলীয় সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশে ফেরার পরই আবদুল জলিলের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্খা গ্রহণ করা হবে বলে দলীয় একটি সূত্র থেকে জানা গেছে।

এ দিকে আবদুল জলিলের বক্তব্যকে দলের অনেক নেতা দলীয় শৃঙ্খলাপরিপন্থী বলে উল্লেখ করেছেন। দলের প্রেসিডিয়ামের সদস্যরা তার এই বক্তব্যকে সরকারের ভাবমর্যাদা বিনষ্টকারী ও দায়িত্বজ্ঞানহীন বলে মন্তব্য করেন। সেই সাথে দলের বিভিন্ন পর্যায় থেকে এ ধরনের বক্তব্যকে দলীয় শৃঙ্খলাবিরোধী হিসেবে চি?িহ্নত করে এ জন্য আবদুল জলিলকে দল থেকে বহিষ্কারের দাবি উঠেছে। দলের বিভিন্ন পর্যায়ের বিক্ষুব্ধ নেতাকর্মীদের চাপে ভারপ্রাপ্ত সভাপতি বেগম সাজেদা চৌধুরী গতকালই দলের জরুরি কার্যনির্বাহী সংসদের সভা আহ্বান করেছিলেন। কিন্তু দলীয় সভানেত্রীর সাথে যোগাযোগ করতে না পারায় পরে তা আবার স্খগিত করা হয়।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবদুল জলিলের বক্তব্যের এক প্রতিক্রিয়ায় দলের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ও সংসদ উপনেতা সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী সাংবাদিকদের বলেন, আওয়ামী লীগের মতো এত বড় একটি দলের সাধারণ সম্পাদক জলিল সাহেবের এমন দায়িত্বজ্ঞানহীন বক্তব্য দেয়া কি ঠিক হয়েছে? নেত্রী দেশে ফিরলেই দলের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী বডি কার্যনির্বাহী কমিটির সভা আহ্বান করা হবে। ওই সভায় তার বক্তব্য সম্পর্কে আলোচনা করা হবে এবং দলের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী তার বিরুদ্ধে ব্যবস্খা গ্রহণ করা হবে।

তিনি বলেন, আবদুল জলিল পার্টিতে থেকে পার্টির বিরুদ্ধেই কথা বলেছেন। হঠাৎ করে পার্টির বিরুদ্ধে কেন তার বিষোদগার তা আমার বোধগম্য নয়।

আবদুল জলিলের দেয়া বক্তব্যে ডিজিএফআই’র ‘দালাল’ শব্দ প্রসঙ্গে প্রেসিডিয়াম সদস্য আমির হোসেন আমু তার প্রতিক্রিয়ায় বলেন, জলিল সাহেবের মুখে ডিজিএফআই শব্দটি বারবার শুনছি। কিভাবে দালালি করে আমরা তা বলতে পারব না। ডিজিএফআই’র দালাল কারা তা ডিজিএফআই সদস্যরাই জানেন। অন্য কারো জানার কথা নয়। গতকাল বুধবার তার ইস্কার্টনস্খ বাসভবনে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে তিনি আরো বলেন, আমি কখনো সংস্কার প্রস্তাব দেইনি। আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা গ্রেফতার হওয়ার পর গত ১ নভেম্বর ২০০৭ থেকে আমি সিঙ্গাপুরে ছিলাম। মাঝে একবার আমার শাশুড়ি মারা যাওয়ার পর দেশে এসেছিলাম। এরপর আবার একবার দেশে এসেছিলাম। তখন আমি মিডিয়ার সামনে দু-একটি কথা বলেছিলাম। তবে নেত্রীকে মাইনাস করার ব্যাপারে কোনো কথা বলিনি। মিডিয়ার পক্ষ থেকে সংস্কারের ব্যাপারে প্রশ্ন এসেছিল। আমি বলেছিলাম, সংস্কারের প্রস্তাব যদি কেউ দিতে চায় তাহলে সেটা দিতে হবে কার্যনির্বাহী কমিটির সভায়। সেখানে সংস্কারের বিষয় নিয়ে আলোচনা হবে। আর ওই সভায় সভাপতিত্ব করবেন আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা।

আবদুল জলিল যে বক্তব্য দিয়েছেন তা দলের এবং নেত্রীর বিরুদ্ধে চলে গেছে।

আওয়ামী লীগ প্রেসিডিয়াম সদস্য সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত সাংবাদিকদের বলেন, দলের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করতে না পেরে জলিল সাহেব সংক্ষুব্ধ-বিক্ষুব্ধ। বিক্ষুব্ধ ব্যক্তি কী বলল তা ধরতে নেই। জলিল সাহেবের এই সমস্যা সঙ্কটে পরিণত হয়েছে। আশা করি, রাজনৈতিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এ সঙ্কটের সমাধান হবে।

পাট ও বস্ত্র মন্ত্রী আব্দুল লতিফ সিদ্দিকী নয়া দিগন্তকে বলেন, জলিলের এই বক্তব্য রাজনৈতিক শিষ্টাচারবিবর্জিত। এ বক্তব্য দেয়ার পর তিনি এখন আর দলের সাধারণ সম্পাদক নেই। তার এ বক্তব্য দলীয় ফোরামে দেয়া উচিত ছিল। আওয়ামী লীগের মন্ত্রিসভায় ডিজিএফআই’র কোনো এজেন্ট নেই বলে উল্লেখ করেন তিনি।

আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক আবদুল জলিল মন্ত্রিসভা, সংগঠন ও দলের শীর্ষ নেতাদের বিরুদ্ধে বক্তব্য দেয়ায় সারাদেশ থেকে দলের নেতাকর্মীদের ক্ষোভ প্রকাশ করতে দেখা যায়। বিভিন্ন পত্রিকায় তার বক্তব্য প্রকাশ হওয়ায় আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতারাও বিরূপ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন। পত্রপত্রিকায় খবরটি দেখে সকাল থেকেই কেন্দ্রীয় ও মাঠপর্যায়ের বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীরা সিনিয়র নেতাদের কাছে ফোন করে বিষয়টি সম্পর্কে জানতে চান। দলের ভারপ্রাপ্ত সভাপতির কাছেও ফোন আসে অনেক। এ পরিস্খিতিতে এক পর্যায়ে দুপুরের দিকে দলের শীর্ষ ফোরাম কার্যনির্বাহী কমিটির সভা আহ্বান করেন তিনি। তবে বৈঠক সম্পর্কে তিনি দলের সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করেন। কিন্তু এ সময় প্রধানমন্ত্রী ওমরাহ পালনে ব্যস্ত থাকায় তার সাথে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। এ কারণে কিছুক্ষণ পরই বৈঠকটি আবার স্খগিত ঘোষণা করা হয়।

দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে গতকাল আলোচনার বিষয়বস্তু ছিল আবদুল জলিলের এ বক্তব্য। দলের নেতারা বলছেন, আওয়ামী লীগ সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ সময় দেশের বাইরে আছেন। তবে হঠাৎ করে আবদুল জলিল এভাবে কেন জ্বলে উঠলেন। এটি কি দলের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব থেকে নিûক্রীয় করে রাখার বহি:প্রকাশ, না পেছন থেকে অন্য কোনো মদদ আছে তা নিয়ে নানা ধরনের জল্পনা চলে।

উল্লেখ্য, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবদুল জলিল এমপি গত মঙ্গলবার সাংবাদিকদের বলেছেন, ওয়ান-ইলেভেনে ডিজিএফআই’র (সামরিক গোয়েন্দা সংস্খা) দালালি করে যারা সুবিধা নিয়েছে, তারা এখনো সুবিধা নিচ্ছে। বর্তমান সরকারের মধ্যেও ওই সুবিধাভোগীরা রয়েছে। বর্তমান সরকারের মন্ত্রিসভায় অনেক মন্ত্রী রয়েছেন যারা ডিজিএফআই’র ‘পেইড এজেন্ট’। তিনি বলেন, দক্ষ ও ত্যাগী নেতাদের নিûিক্রয় করে রাখায় বর্তমানে আওয়ামী লীগের দলীয় কর্মকা মোটেও ভালো হচ্ছে না। এই সুযোগে অনেক সুবিধাভোগী ঢুকে দলের ক্ষতিসাধন করছে।

দিলকুশায় নিজের বাণিজ্যিক কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে আবদুল জলিল ওয়ান ইলেভেন-পরবর্তী বিভিন্ন ঘটনা তুলে ধরে জানান, জেলে থাকাকালে কোন প্রেক্ষাপটে, কিভাবে ডিজিএফআই কর্মকর্তারা চিঠিতে তার স্বাক্ষর করিয়ে নিয়েছিলেন। তিনি বলেন, ওয়ান ইলেভেনের সময় আওয়ামী লীগের শীর্ষ চার নেতাসহ অনেকে ডিজিএফআই’র দালালি করেছে। কথাগুলো বলতে গিয়ে তিনি অনেকটা আবেগতাড়িত হয়ে পড়েন। ক্ষুব্ধ গলায় তিনি বলেন, সব ব্যাটা ওই সময় ডিজিএফআই’র দালালি করেছে। কে দালালি করেনি, সাহস থাকলে বলুন। আমু, রাজ্জাক, তোফায়েল, সুরঞ্জিত সবাই দালালি করেছে। তখন কারা কারা সকাল-বিকেল গুলশানে যেত তা কি আমরা জানি না? সৈয়দ আশরাফের নাম উল্লেখ না করে তিনি বলেন, কারা ওই সময় সকালে ডিজিএফআই’র সাথে মিটিং করে বিকেলে দলের মিটিংয়ে অংশ নিয়েছে তা দেশের মানুষ সবাই জানে। প্রথমে পালিয়ে কেন লন্ডনে গেল, পরে কোন নিশ্চয়তা পেয়ে আবার দেশে ফিরে এলো, দেশের মানুষ বুঝি তা বোঝে না!

আবদুল জলিল বলেন, আমার কী অপরাধ? আমি তার (শেখ হাসিনার) পক্ষে স্ট্যান্ড নেয়ার কারণেই কি এই শাস্তি? যারা ষড়যন্ত্র করল তারা ভালো থাকবে আর আমাকে শাস্তি পেতে হবে, এটা তো হয় না। আমার দলের কিছু নেতা সংস্কারের নামে যখন সক্রিয় হলো, আমি তখন নেত্রীর পক্ষে অবস্খান নিলাম। বললাম, শেখ হাসিনার নেতৃত্বেই সংস্কার হবে। তখন ডিজিএফআইকে বোঝানো হলো, জলিল সাহেবকে যদি নিয়ন্ত্রণ করা না যায় তাহলে এগোতে পারব না।

আবদুল জলিল দাবি করেন, তাকে সক্রিয় করা হলে তিনি এক থেকে দুই মাসের মধ্যে দলকে চাঙ্গা করে তুলতে সক্ষম হবেন। তিনি বলেন, যাদের উপদেশ নিয়ে শেখ হাসিনা চলছেন তারা কখনোই তার ভালো করতে পারবে না।

আবদুল জলিল বলেন, কাউন্সিল হলে নতুন সাধারণ সম্পাদক হবে সেটা তো আমরা আগে থেকেই সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আমার দু’বার সাধারণ সম্পাদক হওয়ার প্রয়োজন নেই। এমনিতেই পাঁচ-সাত বছর ধরে দায়িত্ব পালন করছি। তবে আমি সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দলের কাউন্সিল আয়োজনের দায়িত্ব পালন করতে চাই। আমাকে বাদ দিয়ে অন্য কাউকে দিয়ে করালে সেটা খারাপ দৃষ্টান্ত হবে। আওয়ামী লীগ গণতন্ত্রের কথা বলে। কিন্তু যদি এ রকম করেন তাহলে গণতন্ত্রের কথা আর বলবেন না। ওটাকে বাস্কেটে ছুড়ে ফেলে দিন।

ভালো সংগঠকদের নিûিক্রয় করে না রাখলে দলের বর্তমান এ অবস্খার সৃষ্টি হতো না উল্লেখ করে আবদুল জলিল বলেন, আওয়ামী লীগের দুর্বলতার সুযোগে অনেক সুবিধাভোগী দলে ঢুকে ভালোর অভিনয় করে ক্ষতি করছে। ভালো সংগঠক হিসেবে দলকে সঠিকভাবে পরিচালনা করা সহজ কাজ নয়।

তিনি সাংবাদিকদের বলেন, আপনারা লিখে দিন। আমি তো সবই হারিয়েছি। এখন আমি কাউকেই ভয় পাই না। আমি আমার জায়গায় থেকে ‘ফাইট’ করে যাবো। অন্যায়ের প্রতিবাদ করব। দল থেকে বাদ দিলেও পার্লামেন্ট থেকে তো বাদ দিতে পারবে না। দরকার হলে আবার ভোটে যাবো, জনগণ আমার সাথে আছে।

বর্তমানে দলীয় গঠনতন্ত্র লঙ্ঘন করে দল চলছে উল্লেখ করে আবদুল জলিল বলেন, কাউন্সিল আমাকে সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব দিয়েছে। তা পালন করতে দেয়া হবে না। এটা কোন ধরনের অন্যায়? আমি থাকতে দুই নম্বর যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক (সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম) মিটিং ডাকবে, তার স্বাক্ষরিত দাওয়াতপত্র আমাকে পাঠানো হবে, সেখানে আমি যাবো কেন? বর্তমানে দলীয় সভানেত্রী ছাড়া অন্য কারো ডাকে কোনো দলীয় কর্মকাে অংশ নেন না বলে তিনি সাংবাদিকদের জানান।

তাকে নিûিক্রয় করে রাখার কারণ জানতে চাইলে আবদুল জলিল বলেন, আমি শেখ হাসিনার সাথে কোনো অবিশñাসের কাজ করিনি। করেছি কি না তার কাছে জিজ্ঞাসা করুন। জেলে থাকাকালে চিঠি দেয়া প্রসঙ্গে আবদুল জলিল বলেন, আমার স্ত্রী আমার মুক্তির আবেদন করে কয়েক লাইনের একটি চিঠি পড়েছেন। ওই সময় ডিজিএফআই থেকে ওই চিঠি সরবরাহ করা হয়েছে। একজন বন্দী মানুষকে দিয়ে চিঠি দেয়ানো কতটা আইনগত­ প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, চিঠিতে স্বাক্ষর করানোর জন্য রাত ২-৩টা পর্যন্ত আমার ওপর অত্যাচার করা হতো। ডিজিএফআই’র কর্নেল আফজাল ও কর্নেল সাঈফ হাসপাতালে (ল্যাবএইড) গিয়ে আমার ওপর চাপ প্রয়োগ করত। শেষে একদিন আমাকে বলা হলো, স্বাক্ষর না করলে আপনার স্ত্রী ও ছেলেকে গ্রেফতার করা হবে। তখন আমি তাদের কথা চিন্তা করে স্বাক্ষর করি।

প্রধানমন্ত্রীর স্বামী বিজ্ঞানী ড. ওয়াজেদের ইন্তেকাল



-----------------------------------------

প্রধানমন্ত্রীর স্বামী বিজ্ঞানী ড. ওয়াজেদের ইন্তেকাল, শোকাহত শেখ হাসিনার পাশে খালেদা জিয়া

বিশিষ্ট পরমাণু বিজ্ঞানী, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার স্বামী ড. এম এ ওয়াজেদ মিয়া আর নেই। গতকাল শনিবার বিকেল ৪টা ২৫ মিনিটে তিনি ইন্তিকাল করেছেন। ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন। দীর্ঘদিন ধরে জটিল কিছু রোগের সাথে পাঞ্জা লড়ে গতকাল তিনি মৃত্যুর কাছে হার মানেন। প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব আবুল কালাম আজাদ জানান, আজ সকাল ১০টায় বায়তুল মোকাররম মসজিদে মরহুমের জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। এরপর তার জন্মস্খান রংপুরের পীরগঞ্জে দ্বিতীয় জানাজা শেষে মা-বাবার কবরের পাশে তাকে দাফন করা হবে। ড. ওয়াজেদ মিয়ার বয়স হয়েছিল ৬৭ বছর। ড. ওয়াজেদের মৃত্যুতে সারাদেশে শোকের ছায়া নেমে আসে।

রাত ৯টায় বিএনপি চেয়ারপারসন ও বিরোধীদলীয় নেতা বেগম খালেদা জিয়া সুধা সদনে যান। এ সময় তিনি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ পরিবারের সবাইকে সান্তবনা দেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান। একই সাথে ড. ওয়াজেদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন।

ড. ওয়াজেদ মিয়ার কর্মময় জীবন

স্বনামধন্য পরমাণু বিজ্ঞানী ড. ওয়াজেদ মিয়া কাটিয়েছেন কর্মময় জীবন। প্রতিভাবান, মেধাবী এই বিজ্ঞানী প্রতিটি মুহূর্ত দেশের কল্যাণে কাজ করে গেছেন। রাজনৈতিক সচেতনতা তার বর্ণাঢ্য জীবনে যুক্ত করেছে নতুন মাত্রা। ১৯৭১ সালে এ দেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম এবং এর আগে ও পরের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে তার উপস্খিতি ছিল উল্লেখযোগ্য।

১৯৪২ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি রংপুরের পীরগঞ্জ থানার ফতেহপুর গ্রামের বিখ্যাত মিয়াবাড়িতে জন্ম নেন ড. ওয়াজেদ মিয়া। ১৯৫৬ সালে রংপুর জিলা স্কুল থেকে ম্যাট্রিক পাস করার পর ১৯৫৮ সালে রাজশাহী সরকারি কলেজ থেকে ইন্টারমিডিয়েট পাস করেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পদার্থবিজ্ঞানে পড়ার সময় থেকেই ধীরে ধীরে যুক্ত হতে শুরু করেন রাজনীতির সাথে।

মেধাবী ছাত্র হিসেবে তার সুনাম ছিল। সে সময় বঙ্গবìধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্ব ও আদর্শের প্রতি অনুগত হয়ে পড়েন তিনি। ১৯৬১ সালে ফজলুল হক হলের ছাত্র সংসদ নির্বাচনে ছাত্রলীগ থেকে সহসভাপতি নির্বাচিত হন তিনি।

১৯৬২ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পদার্থবিজ্ঞানে এমএসসি পাস করার পরের বছর তৎকালীন পশ্চিম পাকিস্তানের লাহোরে আণবিক শক্তি কমিশনে চাকরিতে যোগ দেন।

১৯৬৭ সালে লন্ডনের ডারহাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ডক্টরেট ডিগ্রি লাভের পর দেশে ফেরার পর একই বছর ১৭ নভেম্বর বঙ্গবìধু কন্যা শেখ হাসিনার সাথে বিয়ে হয় তার। সে সময় আইয়ুববিরোধী আন্দোলনে ড. ওয়াজেদ সক্রিয় ছিলেন।

বঙ্গবìধু পরিবারের সদস্য হওয়ায় পরিবারটির আনন্দ-বেদনা ও দু:সময়ে ড. ওয়াজেদও এর অংশীদার ছিলেন।

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবìধু সপরিবারে নিহত হওয়ার পর শেখ হাসিনা, শেখ রেহানা ও দুই সন্তানসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে দীর্ঘ সাড়ে ছয় বছর কাটাতে হয় তাকে। পরে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী হিসেবে শেখ হাসিনার দায়িত্ব নেয়া এবং রাজনীতিতে সক্রিয় হওয়ায় তিনি সব সময় পাশে থেকে উৎসাহ জুগিয়ে এসেছেন।

সফল পরমাণু বিজ্ঞানী ড. ওয়াজেদ মিয়া আণবিক শক্তি কমিশনের চেয়ারম্যান হিসেবে ১৯৯৯ সালে অবসর নেন। চার ভাই ও তিন বোনের মধ্যে ড. ওয়াজেদ মিয়া ছিলেন ছোট। ভাই খালেক মিয়া ও বোন আনোয়ারা বেগম এখনো বেঁচে আছেন।

বিদ্যুৎ সমস্যা জোট সরকারের সৃষ্ট রাতারাতি সমাধান সম্ভব নয়



- আওয়ামী লীগ সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

আওয়ামী লীগ সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দলীয় নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, অনেক ষড়যন্ত্র চলছে, ষড়যন্ত্র চলবে, সব ষড়যন্ত্র মোকাবেলা করে আমাদের এগিয়ে যেতে হবে। বিগত বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের সমালোচনা করে তিনি বলেন, ক্ষমতায় থেকে তারা জঙ্গিবাদ সৃষ্টি করেছে। দেশে জঙ্গি উথানের জন্য তারাই দায়ী। জঙ্গিবাদ সৃষ্টি করে তারা দেশের মানুষের নিরাপত্তা নষ্ট করেছে। বিদ্যুৎ সমস্যা তাদেরই সৃষ্ট, রাতারাতি এ সমস্যা সমাধান করা সম্ভব হবে না। শ্রমিক জনসভায় প্রধানমন্ত্রী বলেন, আওয়ামী লীগ মিল, কলকারখানা বìধতে বিশ্বাস করে না; বরং নতুন নতুন শিল্প-কলকারখানা স্খাপনে আওয়ামী লীগ বিশ্বাসী। তিনি শ্রমিকদের সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা দেয়ার প্রতিশ্রুতি দেন।
শুক্রবার মহান মে দিবসে জাতীয় শ্রমিক লীগ আয়োজিত শ্রমিক জনসভায় প্রধান অতিথির ভাষণে তিনি এ কথা বলেন। রাজধানীর পল্টন ময়দানে আয়োজিত এ জনসভায় সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের সভাপতি আবদুল মতিন মাস্টার। অন্যান্যের মধ্যে আওয়ামী লীগ প্রেসিডিয়াম সদস্য আবদুর রাজ্জাক, শ্রমবিষয়ক সম্পাদক হাবিবুর রহমান সিরাজ, শ্রম ও কর্মসংস্খান মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন, প্রতিমন্ত্রী বেগম মন্নুজান সুফিয়ান, ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া, ভারপ্রাপ্ত সভাপতি এম এ আজিজ, আইন প্রতিমন্ত্রী কামরুল ইসলাম, শ্রমিক নেতা আবদুস সালাম খান, শ্রমিক লীগের সাধারণ সম্পাদক রায় রমেশ চন্দ্র, শ্রমিক নেতা শাহজাহান খান এমপি, ফজলুল হক মন্টু, শুক্কুর মাহমুদ, হাসান আলী চারু সরকার, সরদার মোতাহার উদ্দিন, হাবিবুর রহমান আকন, অ্যাডভোকেট হুমায়ুন কবির, সুলতান আহমেদ, শামসুল আলম মিল্কী, রওশন জাহান সাথী এমপি প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, নির্বাচনী ওয়াদা অনুযায়ী আমরা সরকারে এসে চালের দাম কমিয়েছি। ৪০ টাকা কেজির চাল এখন ১৮-২০ টাকায় পাওয়া যায়। শুধু চালের দাম নয়, নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দামও আমরা কমিয়েছি। কৃষি খাতে ভর্তুকি দিয়েছি। সারের দাম অর্ধেক করেছি, তেলের দাম কমিয়েছি। কৃষক যাতে তার উৎপাদিত ধানের ন্যায্য দাম পায় সেজন্য ধানের দাম নির্ধারণ করেছি। বাংলাদেশের মানুষ যেন পেট ভরে ভাত ক্ষেতে পারে সে লক্ষ্যে আমরা কাজ করে যাচ্ছি। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করেছে চার মাস। এর মধ্যে অনেক ঘটনা ঘটেছে। বিশেষ করে পিলখানার জঘন্য হত্যাকাণ্ডের ঘটনা পুরো জাতিকে স্তব্ধ করে দিয়েছে। এই জঘন্য ঘটনায় আমরা আমাদের ৫৭ জন সেনা কর্মকর্তাকে হারিয়েছি। তিনি বলেন, বিদ্রোহ শুধু পিলখানায়ই ছিল না। সারাদেশের বিডিআরদের মধ্যে এ বিদ্রোহ ছড়িয়ে পড়েছিল। শান্তিপূর্ণ আলোচনার মাধ্যমে এ সমস্যার সমাধান করেছি। ৪৩ জন সেনাকর্মকর্তার জীবন রক্ষা করতে পেরেছি। প্রতিটি সেনা অফিসারের পরিবারকে রক্ষা করতে পেরেছি। শেখ হাসিনা বলেন, এত সুন্দর ও শান্তিপূর্ণ সমাধান বিরোধী দল চায়নি। আরো বেশি লাশ পেলে বিরোধী দল তৃপ্ত হতো, তাদের কথা-বার্তায় এটাই বোঝা যায়। লাশ আর রক্ত পেলে বিএনপি খুব খুশি হয়। ক্ষমতায় থাকতে কত মানুষ তারা হত্যা করেছে, কত মা-বাবার বুক খালি করেছে। শ্রমিকদের ন্যায্য দাবি আদায়ের লক্ষ্যে তারা যখন আন্দোলন করছিল, তখন তাদের ওপর গুলি চালিয়ে ১৭ জন শ্রমিককে তারা হত্যা করেছে। অনুরূপভাবে সারের দাবিতে কৃষকরা যখন আন্দোলন করছিল তখন তারা ১৮ জন কৃষককে গুলি করে হত্যা করেছে। তিনি বলেন, শ্রমিকদের এখন আর আন্দোলন করতে হবে না। শ্রমিকরা যাতে ভালো থাকতে পারে সে ব্যবস্খা করা হবে। তিনি বলেন, কেউ খাবে কেউ খাবে না, তা হবে না। শ্রমিকদের অধিকার আমরা প্রতিষ্ঠা করব। শ্রমিকদের দাবি অনুযায়ী আমরা শ্রম আইন সংশোধন করার উদ্যোগ গ্রহণ করেছি। শ্রমিক-মালিক-সরকারের সমন্বয়ে ত্রিপক্ষীয় কমিটি করে দেয়া হয়েছে। রাষ্ট্রের স্বার্থেই আমরা শ্রমিকদের স্বার্থ রক্ষা করব। কারণ শ্রমিকরা ভালো থাকলে কলকারখায় উৎপাদন বাড়বে। শ্রমিকদের উৎপাদিত পণ্য বিদেশে রফতানি করে রাষ্ট্র পাবে বৈদেশিক মুদ্রা। প্রধানমন্ত্রী বলেন, শ্রমিক পরিবারে খাদ্য, শিক্ষা, স্বাস্খ্য, বাসস্খান, বাজার দরের সাথে সঙ্গতি রেখে মজুরি নির্ধারণসহ সব কিছুই করা হবে। শ্রমিক পরিবারের সুবিধার্থে শ্রমিক-কর্মচারীদের চাকরির বষয়সীমা ৬০ বছর করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রবাসী শ্রমিকদের ব্যাংক করা হবে। এখান থেকে ঋণ নিয়ে শ্রমিকরা বিদেশে যাবে এবং ব্যাংকের মাধ্যমে ঋণের টাকা পরিশোধ করবে। শ্রমিক হিসেবে যারা বিদেশে যাবে তাদের দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য ট্রেনিং করানো হবে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন শ্রম ও কর্মসংস্খান মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার খন্দকার মোশাররফ হোসেন, প্রতিমন্ত্রী মন্নুজান সুফিয়ান, আইএলও’র আবাসিক পরিচালক পানুদা বুন পালা, এমপ্লায়ার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি কামরান টি রহমান এবং শ্রমিক প্রতিনিধি জাতীয় শ্রমিক লীগ সভাপতি আবদুল মতিন মাস্টার। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন শ্রম ও জনশক্তি মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব আতাহারুল ইসলাম। উদ্বোধন অনুষ্ঠান শেষে প্রধানমন্ত্রী মে দিবস মেলার উদ্বোধন করেন।